বাসের ছাদে লতাপাতা আর ধুলাবালির আস্তরণ। ইঞ্জিনসহ দামি ও গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রাংশ কিছুই নেই। জানালার কাচগুলোও ভাঙা। ওলট-পালট ভেতরের সিট।
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন ডিপোতে গেলে দেখা মিলবে এমন ৬টি বাস। শিক্ষার্থীদের যাতায়াতের সুবিধার্থে ২০১১ সালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পক্ষ থেকে উপহার হিসেবে দেয়া হয়েছিল বাসগুলো। তবে কয়েক বছর না যেতেই এগুলোর জায়গা হয়েছে ডাম্পিং এলাকায়।
বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন অফিস থেকে জানা যায়, ২০১১ সালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রথম দুইটি বাস উপহার দেন। তার কিছুদিন পর বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন করপোরেশন (বিআরটিসি) প্রধানমন্ত্রীর উপহার লেখা আরও চারটি বাস পাঠায়। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের দাবি, ছয়টি বাসই প্রধানমন্ত্রী উপহার দিয়েছেন।
তবে চারটি বাস পাঠানোর কিছু দিন পরই ভাড়া দাবি করে বিআরটিসি। এরপর বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বাসগুলো উপহারের দাবি করে ভাড়া পরিশোধের প্রয়োজনীয়তা নেই বলে বিআরটিসিকে চিঠি পাঠায়। তবে সেই চিঠির জবাব না দিয়ে পরবর্তীতে ফের ভাড়ার তাগিদ দিয়ে চিঠি দেয় বিআরটিসি।
সবশেষ ২০১৮ সালের ৩১ জুলাই দৈনিক বাসপ্রতি ১ হাজার ৪০০ টাকা ভাড়া হিসাবে ১ কোটি ৪৬ লাখ ৪৮ হাজার টাকা বকেয়া চেয়ে চিঠি পাঠায় বিআরটিসি।
বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ২০১৭ সালের ২৯ নভেম্বর সিন্ডিকেট সভায় এ বিষয়টি উপস্থাপনও করা হয়েছিল। তখন টাকা পরিশোধের বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত না নিয়ে বিআরটিসির সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে হিসাব-নিকাশ সমাধান করার কথা বলে সিন্ডিকেট।
জাবির পরিবহন অফিস জানিয়েছে, সিন্ডিকেটে বিষয়টি উপস্থাপনের আগেই বাসগুলো নষ্ট হয়। বিষয়টি ২০১৭ সালের ৫ নভেম্বর সেখান থেকে ভাড়া দাবি করা হয় বিআরটিসিকে সেই মিরপুর দ্বিতল বাস ডিপোকে চিঠি দিয়ে জানানো হয়।
তবে বিআরটিসি সেই চিঠির কোনো জবাবও দেয়নি। বাসগুলোর বিষয়ে কোনো ব্যবস্থাও নেয়নি।
পরিবহন অফিসের দাবি, জাবির পরিবহনে যুক্ত হওয়া যে কোনো বাস ব্যবহারের সময় ৬-৭ বছর না হওয়া পর্যন্ত বেচা নিষিদ্ধ হওয়ায় অকেজো হলেও সেগুলো বিক্রি করা সম্ভব হয়নি।
বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন অফিসের এক কর্মকর্তা জানান, ৫২ আসনের চায়না ডেলিগেটেড সিএনজি বাসগুলো যখন উপহার হিসেবে দেয়া হয়েছিল তখন একেকটির দাম ছিল ৩২-৩৫ লাখ টাকা। সেই হিসাবে চারটি বাসের দাম ১ কোটি ২৮ লাখ টাকা। বাসগুলো অকেজো হওয়ায় সেই দামের তেমন কিছুই পাওয়া যাবে। এ ছাড়া গাড়ির মূল্যবান ও ব্যবহারযোগ্য যন্ত্রাংশগুলোও চুরি হয়ে গেছে।
এ বিষয়ে পরিবহন কার্যালয়ের দায়িত্বে থাকা অধ্যাপক আলী আজম তালুকদার বলেন, বিআরটিসির চারটি বাসের ভাড়া আমরা পরিশোধ করতে পারব না। ভাড়া মওফুকের জন্য বিআরটিসিকে চিঠি দেয়া হয়েছে। তবে চিঠির কোনো উত্তর পাইনি।
দীর্ঘদিন অকেজো অবস্থায় থাকা এই বাসগুলো ফেরত নেয়ার ব্যাপারেও তারা কোনো উদ্যোগ নেয়নি। তাদের এই বাস তো আমরা বিক্রিও করতে পারি না। তবে উপহারের দুটিসহ আমাদের পরিত্যক্ত অন্য বাসগুলো বিক্রির প্রক্রিয়া শুরু হবে।
এদিকে পরিত্যক্ত বাসগুলো বিশ্ববিদ্যালয়ের পার্শ্ববর্তী এলাকার তরুণদের মাদক সেবনের নিরাপদ স্থানে পরিণত হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
পরিবহন ডিপো সংলগ্ন বিশমাইল এলাকার এক স্থানীয় বাসিন্দা অভিযোগ করেন, প্রায় প্রতিদিনই স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীসহ স্থানীয় যুবকদের কয়েকটি দল ওই স্থানে মাদক সেবন করেন। বিশেষ করে সন্ধ্যার পর তাদের আনাগোনা বাড়তে থাকে।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর আ স ম ফিরোজ-উল-হাসান জানান, পরিবহন ডিপো বিশ্ববিদ্যালয়ের এক প্রান্তে ও দূরে হওয়ায় সব সময় খবর পাওয়া যায় না। তবে যখনই খবর পাওয়া যায় ব্যবস্থা নেয়া হয়।
http://dlvr.it/SG72MZ


0 Comments