সাত দশকের ক্যারিয়ারে হাজার হাজার গান গেয়ে কোটি কোটি শ্রোতার মন ভরিয়েছেন উপমহাদেশের কিংবদন্তি শিল্পী লতা মঙ্গেশকর। তার গানের কথায় প্রেম, ভালোবাসা, বিরহ খুঁজেছে অসংখ্য মানুষ, তবে সুরসম্রাজ্ঞীর প্রণয় কিংবা পরিণয় নিয়ে পরিষ্কারভাবে কিছু জানা যায়নি।
প্রণয় নিয়ে মুখ খোলেননি লতা, তবে বিয়ে না করার কারণ জানিয়েছিলেন এ শিল্পী।
হিন্দুস্তান টাইমসের প্রতিবেদনে জানানো হয়, এক সাক্ষাৎকারে লতার কাছে বিয়ে না করার কারণ জানতে চান খালিদ মোহাম্মদ।
লতাকে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল, বিয়ে না করায় একাকীত্ব তাকে ঘিরে ধরে কি না। জবাবে শিল্পী বলেছিলেন, একমাত্র আমার মা বিয়ে নিয়ে জোরাজুরি করতেন। একসময় তিনিও হাল ছেড়ে দেন।
আমার কাছে বিয়ের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ ছিল আমার পরিবার, কিন্তু এমনটা অস্বীকার করব না যে, আমাকে কোনোদিন একাকীত্ব ঘিরে ধরেনি। তাহলে তো আমি মানুষই হতাম না।
তিনি আরও বলেন, বিবাহিত হোন কিংবা সিঙ্গেল, একাকীত্ব সবার জীবনে আছে। কখনো কখনো এই একাকীত্ব ক্ষতিকারক হয়, তবে আমি বলব, আমি খুব সৌভাগ্যবান যে, ভালোবাসার মানুষরা আমার আশপাশে সবসময় থেকেছে।
ওই সাক্ষাৎকারে লতাকে প্রশ্ন করা হয়, লতা মঙ্গেশকর কোনোদিন প্রেমে পড়েননি?
মুচকি হেসে লতা জবাব দিয়েছিলেন, হ্যাঁ, পড়েছে তো, তবে শুধু নিজের কাজের সঙ্গে। আর আমি ভালোবেসেছি আমার আপনজনদের, আমার পরিবারকে, আর কাউকে নয়।
মুম্বাইয়ের ব্রিচ ক্যান্ডি হাসপাতালে রোববার মৃত্যু হয় লতা মঙ্গেশকরের। ওই হাসপাতালের চিকিৎসক প্রতীতি সামদানি বলেন, গভীর শোকের সঙ্গে জানাচ্ছি যে, সকাল ৮টা ১২ মিনিটে লতা মঙ্গেশকরের দুঃখজনক মৃত্যু হয়েছে।
করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন নাইটিঙ্গেল অফ ইন্ডিয়া খ্যাত এ শিল্পী। তার মৃত্যুতে শোক জানিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, সড়ক পরিবহন ও মহাসড়কমন্ত্রী নিতীন গড়কড়িসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।
১৯২৯ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর বর্তমান ভারতের মধ্যপ্রদেশের ইন্দোরে জন্মগ্রহণ করেন লতা। পাঁচ বছর বয়স থেকে বাবা পণ্ডিত দীননাথ মঙ্গেশকরের কাছে গান শেখা শুরু করেন তিনি।
পাঁচ ভাই-বোনের মধ্যে লতা ছিলেন সবার বড়। বাকিরা হলেন মীনা খাদিকর, আশা ভোসলে, ঊষা মঙ্গেশকর ও হৃদয়নাথ মঙ্গেশকর।
কৈশোরে বাবাকে হারান লতা। এরপর থেকেই সহোদরদের আগলে রাখেন তিনি।
http://dlvr.it/SJStRj


0 Comments