প্রতিটা মানুষেরই আলাদা কিছু বৈশিষ্ট্য থাকে। আর এই বৈশিষ্ট্যের মাধ্যমে আপনি আপনার এমন আত্মীয়কে (একই বংশোদ্ভূত) খুঁজে বের করতে পারবেন যার সঙ্গে কখনও আপনার দেখাই হয়নি। থাকুক তিনি পৃথিবীর যেকোনো প্রান্তে।
শুনতে অবাক লাগলেও পৃথিবীর সব নীল চোখের মানুষের ক্ষেত্রে বিষয়টি সত্য। গবেষণায় দেখা গেছে, পূর্ববর্তী, পরবর্তী এমনকি ভবিষ্যতে যারা আসবে তারা সবাই একটি সাধারণ কেন্দ্রে সম্পর্কিত। আর এ কারণে দূরবর্তী আত্মীয়কে সহজেই চেনে নিতে পারবেন নীল চোখের অধিকারীরা।
গবেষকরা দেখেছেন, বিশ্বে নীল চোখের মানুষদের কেবল একজন পূর্বপুরুষ ছিলেন, যিনি সম্ভবত প্রায় ১০ হাজার বছর আগে বাস করতেন কৃষ্ণ সাগর অঞ্চলে। তার মধ্যে এক জেনেটিক মিউটেশন ঘটেছিল, যা সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়ে। সেই একজন মানুষ না থাকলে পৃথিবীর প্রতিটি মানুষের চোখ হতো বাদামী।
বলা হয়ে থাকে, মেলানিনের কারণে বাদামী হচ্ছে মানুষের চোখের স্বাভাবিক রঙ। উত্তর ইউরোপে ওসিএ২ নামে জিনে একটি মিউটেশন দেখা যায়। এতে আইরিসে মেলানিনের উৎপাদনকে ব্যাহত করে। এর ফলে চোখের রঙ হয়ে যায় নীল।
চোখের রঙের সঙ্গে জিনের সম্পর্ক ওতপ্রোত। বলা যেতে পারে যে, সব চোখ একই রঙের। আর এর কারণ মেলানিন নামক রঙ্গক যা আমাদের চোখের রঙ দেয়। স্বাভাবিকভাবেই তা বাদামী।
ডেনমার্কের ইউনিভার্সিটি অফ কোপেনহেগেনের অধ্যাপক হ্যান্স আইবার্গ বলছেন, প্রাথমিকভাবে আমাদের সবার চোখ ছিল বাদামী। তবে একটি জেনেটিক মিউটেশন আমাদের ক্রোমোজোমে ওসিএ২ জিনকে প্রভাবিত করে। যার ফলে একটি সুইচ' তৈরি হয় আক্ষরিক অর্থে যা বাদামী চোখ তৈরি করার ক্ষমতা বন্ধ করে দেয়। পরবর্তীতে সেই মিউটেশন ক্রমশ পরবর্তী প্রজন্ম হয়ে ছড়িয়ে গেছে মানবজাতিতে।
গবেষকরা দেখেছেন, বিশ্বে নীল চোখের মানুষদের কেবল একজন পূর্বপুরুষ আছে যিনি সম্ভবত ১০ হাজার বছর আগে কৃষ্ণ সাগর অঞ্চলে বাস করতেন।
চোখের রঙের জেনেটিক্স গবেষণায় দেখা গেছে, ৯৯.৫ শতাংশেরও বেশি নীল চোখের মানুষের জিনে একই ক্ষুদ্র মিউটেশন রয়েছে, যা আইরিসের রঙ নির্ধারণ করে।
এই গবেষণার মতে, মিউটেশনটি কেবল একজনের মধ্যে ঘটেছিল। আর তিনিই বিশ্বের সব নীল চোখের অধিকারীদের পূর্বপুরুষ।
হিউম্যান জেনেটিক্স জার্নালে বলা হয়েছে, নীল চোখের রঙের জন্য দায়ী মিউটেশনগুলো সম্ভবত কৃষ্ণ সাগর অঞ্চলের উত্তর-পশ্চিম অংশ থেকে উদ্ভূত হয়েছে। প্রায় ৬০০০-১০০০০ বছর আগে নিওলিথিক যুগে ইউরোপের উত্তর অংশে তখন বড় ধরনের কৃষি বিল্পব (অ্যাগ্রিকালচারাল মাইগ্রেশন) ঘটেছিল।
অধ্যাপক হ্যান্স বলেন, মানুষের চোখের রঙের তারতম্য আইরিসে মেলানিনের পরিমাণ দিয়ে ব্যাখ্যা করা যেতে পারে। এভাবে আমরা দেখতে পেয়েছি, নীল চোখের ব্যক্তিদের চোখে মেলানিনের পরিমাণে সামান্য পার্থক্য রয়েছে।
এ থেকে আমরা এই উপসংহারে আসতে পারি যে সব নীল চোখের মানওষ একই পূর্বপুরুষের সঙ্গে যুক্ত। তারা সবাই ডিনএন-এর এই মিল উত্তরাধিকারসূত্রে পেয়েছে।
নীল চোখের নারী-পুরুষ সবার চোখের ডিনএনএ-এর জেনেটিক সিকোয়েন্স একই। অন্যদিকে, বাদামী চোখের অধিকারীদের ক্ষেত্রে, ডিএনএ-এর সেই এলাকায় যথেষ্ট পরিমাণে ভিন্নতা রয়েছে।
http://dlvr.it/SRhvyB


0 Comments