দেশে প্রথমবারের মতো অনুষ্ঠিত শেখ হাসিনা আন্তঃব্যাংক ফুটবল টুর্নামেন্ট-২০২৩ চ্যাম্পিয়ন হয়েছে ইউনিয়ন ব্যাংক। রাজধানীর বনানীতে আর্মি স্টেডিয়ামে শুক্রবার অনুষ্ঠিত ফাইনালে তারা ২-১ গোলে হারিয়ে দিয়েছে আল আরাফা ইসলামী ব্যাংককে।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বর্ণিল আয়োজনে টুর্নামেন্টের এই ফাইনাল খেলার সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে চ্যাম্পিয়ন ও রানার্স-আপ দলের হাতে ট্রফি ও প্রাইজমানির চেক তুলে দেন।
পুরস্কার হিসেবে চ্যাম্পিয়ন দলকে ট্রফি ও ৫০ লাখ টাকা এবং রানার্স-আপ দলকে ৪০ লাখ টাকা দেয়া হয়। এ ছাড়াও টুর্নামেন্টে তৃতীয় হওয়া গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক দলকে ৩০ লাখ এবং চতুর্থ স্থান অর্জন করা সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক দল ২০ লাখ টাকা প্রাইজমানি পায়।
টুর্নামেন্টে চতুর্থ স্থান অর্জন করা সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক দলের হাতে প্রাইজমানি তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী। ছবি: নিউজবাংলা
বেসরকারি ব্যাংক কর্মকর্তাদের নিয়ে বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অফ ব্যাংকস (বিএবি) প্রথমবারের মতো এই টুর্নামেন্টের আয়োজন করে। দেশে প্রথমবারের মতো এই টুর্নামেন্ট আয়োজক কমিটিতে সদস্য সচিবের দায়িত্ব পালন করেন পদ্মা ব্যাংকের চেয়ারম্যান চৌধুরী নাফিজ সরাফাত।
দেশের ৩৪টি বেসরকারি ব্যাংক দল এতে অংশ নেয়। টুর্নামেন্টে সার্বিক সহযোগিতা করেছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সেনা ক্রীড়া নিয়ন্ত্রণ বোর্ড।
সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল এস এম শফিউদ্দিন আহমেদ ১৩ মে এই টুর্নামেন্টের উদ্বোধন করেন। এক মাসব্যাপী এই ক্রীড়া আয়োজনে বিভিন্ন ব্যাংকের কর্মকর্তারা অংশ নেন।
রাজধানীর ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির স্থায়ী ক্যাম্পাস মাঠ ও মিরপুর পাবলিক অর্ডার ম্যানেজমেন্ট মাঠে টুর্নামেন্টের গ্রুপ পর্যায়ের খেলাগুলো অনুষ্ঠিত হয়েছে।
ফাইনাল ম্যাচে আল আরাফাহ ইসলামী ব্যাংককে ২-১ গোলে হারিয়ে প্রথম শিরোপা জিতে নেয় ইউনিয়ন ব্যাংক। নির্ধারিত ৫০ মিনিটের এই ম্যাচে প্রথম থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলেন ইউনিয়ন ব্যাংক দলের খেলোয়াড়রা। সে সুবাদে প্রথমার্ধের প্রথম মিনিটেই কর্নার আদায় করে নেয় দলটি।
ওই কর্নার থেকে গোল আদায় করতে না পারলেও ম্যাচের চার মিনিটের মাথায়ই গোলের দেখা পেয়ে যায় তারা। মাঠের বাম প্রান্ত থেকে গোছানো আক্রমণে জাহিদের বাড়ানো পাসে দারুণ ফিনিশিং দেন ইউনিয়ন ব্যাংকের আক্রমণ ভাগের খেলোয়াড় জমির।
টুর্নামেন্টের ফাইনাল খেলা উপভোগ করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন আমন্ত্রিত অতিথি ও আয়োজক কমিটির নেতৃবৃন্দ। ছবি: নিউজবাংলা
১-০ গোলে এগিয়ে থাকা ইউনিয়ন ব্যাংকের আক্রমণে নাজেহাল হয়ে পড়ে আল আরাফাহ ইসলামী ব্যাংক দল। উপর্যুপরি আক্রমণের এই ধারাবাহিকতায়ই ম্যাচের ১৯ মিনিটের মাথায় আরেকটি গোলের দেখা পেয়ে যায় ইউনিয়ন ব্যাংক দল। মাঝ মাঠের খেলোয়াড় শাহেদকে ডি-বক্সের মধ্যে আল-আরাফাহ ব্যাংকের মিজান ফাউল করলে পেনাল্টি পায় ইউনিয়ন ব্যাংক। তা থেকে গোল করে দলটি ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায়।
ম্যাচের ২০ মিনিটে সহজ একটি সুযোগ পেলেও তা কাজে লাগাতে পারেনি আল আরাফাহ ইসলামী ব্যাংক। এছাড়া প্রথমার্ধে উল্লেখযোগ্য আর কোনো সুযোগ তৈরি করতে পারেনি তারা। এভাবেই শেষ হয় প্রথমার্ধ।
বিরতির পর ২ গোলে পিছিয়ে থেকে মাঠে নামা আল আরাফাহ ব্যাংক দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়ায়। দ্বিতীয়ার্ধের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলে দলটি প্রতিপক্ষকে চেপে ধরে। তাদের একের পর এক আক্রমণে রক্ষণাত্মক খেলা শুরু করে ইউনিয়ন ব্যাংক।
১০ মিনিটের মাথায় স্ট্রাইকার সৌরভ দারুণ এক গোল করে আল আরাফাহ ব্যাংককে ম্যাচে ফেরার আশা দেখাচ্ছিলেন। ম্যাচের ৪৪ মিনিটে সমতায় ফেরার সেই সুযোগটিও পেয়ে যায় তারা। কিন্তু ফিনিশিংয়ের অভাবে সেই সুযোগ হাতছাড়া হয়ে যায় আল আরাফাহ ব্যাংকের।
শেষ পর্যন্ত ২-১ ব্যবধানে প্রতিপক্ষকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করে ইউনিয়ন ব্যাংক। আর রানার্স-আপ হয়েই মাঠ ছাড়তে হয় আল আরাফা ইসলামী ব্যাংক দলকে।
http://dlvr.it/SqQkVq


0 Comments