বুধবার রাত পৌনে ১২টা। সদর হাসপাতালের বেডে শুয়ে কাতরাচ্ছেন কক্সবাজার শহরের পর্যটন জোনের শালিক রেস্তোরাঁর কর্মচারী সায়েদ বিন আবদুল্লাহ।
রেস্তোরাঁর পেছনে নিয়ে গিয়ে তাকে বেঁধে বেধড়ক পেটান মালিক নাসির উদ্দীন। দোষ, ৫ মিনিটের ছুটি নিয়ে বাইরে গিয়ে ১০ মিনিট পর ফিরেছেন। আর এই পাঁচ মিনিট বিলম্বের সাজা হিসেবে লোহার রড দিয়ে বেধড়ক পেটান শালিক রেস্তোরাঁর এই মালিক।
নাসির উদ্দীনের বিরুদ্ধে কর্মচারীর ওপর নির্যাতন চালানোর এমন অভিযোগ অবশ্য নতুন কিছু নয়। রেস্তোরাঁয় কাজ করতে আসা কর্মচারীদের ছোটখাটো বিষয়কে কেন্দ্র করে লোহার রড দিয়ে মারধর করেন তিনি। এর আগেও মামুলি ঘটনা নিয়ে তিন কর্মচারীকে এভাবে বেধড়ক পিটিয়ে আহত করেছেন এই রেস্তোরাঁ মালিক।
নির্মম কায়দায় কর্মচারীদের ওপর নির্যাতনের ঘটনা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর নাসিরকে গ্রেপ্তার ও শাস্তির দাবিতে জেলার রাজপথে আন্দোলনে নেমেছেন বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।
একই দাবিতে রোববার খুরুশকুলবাসী ও হোটেল কর্মচারীদের বিভিন্ন সংগঠন মানববন্ধন এবং বিক্ষোভ করে। ফেসবুকসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও তার শাস্তির জোরালো দাবি উঠেছে।
সায়েদ বিন আবদুল্লাহকে অমানুষিক নির্যাতনের ঘটনায় কক্সবাজার সদর মডেল থানায় নাসির উদ্দিনের বিরুদ্ধে শনিবার মামলা করা হয়।
অন্যদিকে কর্মচারী সায়েদ বিন আবদুল্লাহকে নির্যাতনের ঘটনা প্রকাশ পাওয়ার পর নাসিরের হাতে আরও বহু কর্মচারী নির্যাতনের ঘটনা বেরিয়ে আসছে। নির্যাতিতদের মধ্যে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর দুই তরুণী এবং এক তরুণ রয়েছেন বলে জানা যায়। এতে সব মহলে উত্তেজনা ও ক্ষোভ তীব্র হয়েছে।
আরও বেশ কয়েকজন কর্মচারীকেও যে নাসির নির্যাতন করেছেন এ তথ্য প্রকাশ্যে এসেছে। তাদের মধ্যে কেনসিং মারমা, দিপ্তী ত্রিপুরা ও খালেদ নামের তিন কর্মচারী নাসিরের নামে নির্যাতনের অভিযোগ তুলেছেন।
নাসির রড দিয়ে কেনসিং মারমা ও দিপ্তী ত্রিপুরাকে পেটানোর কয়েকটি ছবি ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে। এসব ছবিতে দেখা যায়, প্রহারের শিকার ওই দুই তরুণীর পুরো শরীরে গুরুতর জখমের দাগ তৈরি হয়েছে।
ওই দুই ভুক্তভোগী তরুণী জানিয়েছেন, ঠুনকো অভিযোগে তাদের দুজনকে অত্যন্ত নির্মমভাবে লোহার রড দিয়ে মেরেছেন নাসির উদ্দীন।
মারধরের ঘটনার পর ১২ অক্টোবর রাতে নাসিরের বিরুদ্ধে অভিযোগ করতে কক্সবাজার সদর মডেল থানায় যান ভুক্তভোগী ওই দুই তরুণী। তারা লিখিত অভিযোগ জমা দেন। কিন্তু রহস্যজনক কারণে পরে তারা নিজেরাই অভিযোগ তুলে নেন বলে জানিয়েছেন থানার ওসি রকিবুজ্জামান।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, নাসির ভয়ভীতি দেখানোর পাশাপাশি ক্ষতিপূরণের আশ্বাস দেয়ায় ওই দুই তরুণী অভিযোগ তুলে নেন।
দীর্ঘদিন ধরে কর্মচারীদের ওপর নির্যাতন, গলাকাটা বাণিজ্য ও নারী কর্মচারীদের যৌন হয়রানিসহ নানা অভিযোগ রয়েছে শালিক রেস্তোরাঁর মালিক নাসিরের বিরুদ্ধে। কিন্তু রহস্যজনক কারণে এসব অপরাধ করেও পার পেয়ে যাচ্ছেন এই বিতর্কিত রেস্তোরাঁ ব্যবসায়ী।
নাসিরকে দ্রুত গ্রেপ্তার করে শাস্তির আওতায় আনার দাবি জানিয়েছে ভুক্তভোগী কর্মচারী সায়েদ বিন আবদুল্লাহর পরিবার।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত নাছির উদ্দীনের বক্তব্য জানতে তার মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে ফোন কেটে দেন। পরবর্তীতে এসএমএস দিলেও কোনো সাড়া দেননি তিনি। পরে শালিক রেস্তোরাঁয় গিয়েও তাকে পাওয়া যায়নি।
http://dlvr.it/SxVkLl


0 Comments