Ticker

6/recent/ticker-posts

Header Ads Widget

Responsive Advertisement

পঞ্চগড়ের তাপমাত্রা নামল ৯.৭ ডিগ্রিতে

উত্তরের জেলা পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় আজ দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে। সোমবার সকাল ৭টায় তেঁতুলিয়া আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রে তাপমাত্রা রের্কড করা হয়েছে ৯ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
পঞ্চগড়ের মৃদু শৈত্য প্রবাহের প্রভাব পড়েছে জনজীবনে। সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত সূর্যের হালকা উষ্ণতা থাকছে। তারপর হিমালয় থেকে বাতাস বইতে শুরু হলে সন্ধ্যা হতেই হাটবাজারসহ রাস্তাঘাট হয়ে পড়ছে জনশূন্য।
ঘন কুয়াশার সঙ্গে পাহাড় থেকে বয়ে আসা হিম বাতাস পঞ্চগড়ের মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রাকে দুর্বিষহ করে তোলে। বিশেষ করে নিম্ন আয়ের মানুষের।
এ অঞ্চলের সমতলের চা বাগানের শ্রমিকসহ নদীকেন্দ্রিক পাথর শ্রমিকরা নদীর ঠান্ডা পানিতে নামতে না পেরে তাদের জীবন জীবিকায় টান পড়ছে। জীবিকার তাগিদে নদীর পাড়ে বসে দুপুর পর্যন্ত অপেক্ষা করে অবশেষে নদীর ঠান্ডা পানিতে নেমে পাথর সংগ্রহ করছেন।
তারা জানান, এখন শীতবস্ত্রের সঙ্গে শীতার্ত মানুষের মধ্যে সরকারি খাদ্য সহায়তা দেয়া জরুরি হয়ে পড়েছে।
পঞ্চগড় রাজনগর এলাকার অটোরিকশা চালক সমশের আলী বলেন, গত ১ সপ্তাহ ধরে আয় কমে গেছে। সকালে এবং সন্ধ্যায় শহরে লোকজন কমে গেছে, যাত্রী হয় না শীতের কারণে।
শহরের টিন পর্টির আবুল কাশেম বলেন, শীতের কারণে রাতে মালামাল লোড আনলোড করতে সমস্যা হচ্ছে। কাজ কমে গেছে। শীতের এই দুই মাস কষ্ট হয় সংসার চালাতে।
শহরতলীর বেংহাড়ি ইউনিয়নের রফিকুল ইসলাম, আকবর আলী সুমন হাসনাত এরা সবাই ইট ভাটায় কাজ করেন। তীব্র শীতে কাজকর্ম করতে না পারায় বাড়িতে বসে আছেন। অনেকে অর্ধেক দিন কাজ করছেন। আগামী জানুয়ারি পর্যন্ত এমন অবস্থা থাকবে বলে তারা জানায়।
আবহাওয়া অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, সারা পৌষে এবং মাঘে তাপমাত্রা আরও কমতে শুরু করবে। ৬ ডিগ্রির নিচে গড়িয়ে তীব্র শৈত্যপ্রবাহ সৃষ্টি করবে। এবং টানা জানুয়ারি পর্যন্ত তীব্র শীতের প্রকোপ থাকবে।
হিমালয়ের অবস্থান খুব কাছে হওয়ার কারণে সন্ধ্যা হতেই পাহাড়ি হিমেল হাওয়া আছড়ে পড়ছে সীমান্তের এই জনপদে। ফলে জনজীবনে দুর্ভোগ বাড়ছেই।
পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালের মেডিসিন ও হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ মাহবুব আলম জানান, শীত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বয়স্ক ও শিশুরা আক্রান্ত হচ্ছে নানা শীতজনিত রোগে। প্রতিদিন হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছে অনেক শিশু। হাসপাতালে জায়গার অভাবে শিশুরা মেঝেতে চিকিৎসা নিচ্ছে।
জেলা প্রাণিসম্পদ বিভাগ জানিয়েছে, টানা তীব্র শীতে গবাদি পশুর নানা রোগ দেখা দিয়েছে। গরু ছাগলের সর্দি, ডায়রিয়াসহ খুরা রোগ দেখা দিয়েছে।
এদিকে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে দরিদ্র শীতার্তদের জন্য পঞ্চগড়ের পাঁচটি উপজেলায় কিছু শীতবস্ত্র বিতরণ করা হয়েছে। নতুন করে শীতবস্ত্র বরাদ্দের জন্য জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে মন্ত্রণালয়ে বার্তা পাঠানো হয়েছে।
পঞ্চগড়ের জেলা প্রশাসক মো. জহুরুল ইসলাম বলেন, ডিসেম্বর এবং জানুয়ারি এই দুই মাস পঞ্চগড়ের মানুষের জীবনে নেমে আসে অবর্ণনীয় দুর্ভোগ। তীব্র শীতে মানুষ কর্মহীন হয়ে পড়ে। সাধারণ মানুষদের সহায়তার বিষয়টি কঠিন হয়ে পড়ে।
আগামী দুমাস এ সব শীতার্ত মানুষের পাশে দাঁড়াতে সরকারিভাবে ব্যবস্থা গ্রহণের প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। অসহায় মানুষদের খাদ্য সহায়তাসহ শীত মোকাবিলায় প্রশাসনের পক্ষ থেকে সব ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
তেঁতুলিয়া আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের কর্মকর্তা রোকন উদ্দিন জানান, বর্তমানে তেঁতুলিয়ায় গত দুই সপ্তাহ ধরে ৯ থেকে ১১ ডিগ্রিতে তাপমাত্রা উঠানামা করছে। সোমবার তাপমাত্রা নেমে গেছে ৯ দশমিক ৭ ডিগ্রির ঘরে। জানুয়ারি মাসের পুরো সময়জুড়ে মাঝারি শৈত্যপ্রবাহের আশঙ্কা রয়েছে, সেই ক্ষেত্রে তাপমাত্রা ৮ ডিগ্রির নিচে নেমে আসতে পারে।


http://dlvr.it/T0GxGd

Post a Comment

0 Comments