বরগুনার বেতাগীতে পাওনা টাকা আদায়ে কলেজ পড়ুয়া এক ছাত্রকে শিকলে বেঁধে নির্যাতনের অভিযোগ পাওয়া গেছে।
ওই ছাত্রকে দড়ি দিয়ে বেঁধে রাখা হয়েছে, শুক্রবার সন্ধ্যার পর এমন একটি ছবি ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে।
ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার বুড়ামজুমদার ইউনিয়নে।
এ ঘটনায় বেতাগী থানায় লিখিত অভিযোগ করা হলেও পুলিশ কোনো ব্যবস্থা নেয়নি বলে দাবি ভুক্তভোগী পরিবারের।
নিউজবাংলাকে বেতাগী থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আবদুস সালাম অভিযোগ পাওয়ার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেছেন, তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
তবে আটকে রাখলেও ওই ছাত্রকে শিকল দিয়ে বেঁধে মারধরের বিষয়টি অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত ব্যবসায়ী আরাফাত হোসেন।
ভুক্তভোগী ১৮ বছরের ওই শিক্ষার্থী ঢাকী উপজেলার কাউনিয়া কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্র। তার বাড়ি বেতাগী উপজেলার বুড়ামজুমদার ইউনিয়নের পুলেরহাট বাজার এলাকায়।
ভুক্তভোগী কলেজছাত্র নিউজবাংলাকে বলেন, ২৪ জানুয়ারি ব্যবসায়ী আরাফাতের কাছ থেকে আমার এক আত্মীয়কে বিকাশে ২৪ হাজার টাকা পাঠাই।
তিনি পরিচিত হওয়ায় আমি তাকে নগদ টাকা দেয়ার আগেই আত্মীয়ের নম্বরে তিনি ২৪ হাজার টাকা পাঠিয়ে দেন। কিন্ত টাকা পরিশোধ করতে গিয়ে দেখি ভুলে অন্য নম্বরে টাকা চলে গেছে।
ব্যবসায়ী আরাফাতের অসতর্কতায় টাকাটা ভুল অন্য নম্বরে চলে যায় দাবি করে তিনি বলেন, এ নিয়ে আমাদের তর্ক হয় এবং আমি টাকা পরে দেব বলি। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে আরাফাত ও সাবেক ইউপি সদস্য রাজু মৃধা আমাকে শিকল দিয়ে দোকানের সামনে গাছে বেঁধে মারধর করেন।
পরে খবর পেয়ে আমার চাচা স্থানীয় গ্রামপুলিশ সদস্য গানোপাতি কাওরিয়া ঢাকীকে নিয়ে আমাকে ছাড়িয়ে নিয়ে আসেন।
মারধরের বিচার চেয়ে ভুক্তভোগী ছাত্র বলেন, আমার সঙ্গে এমন অমানবিক নির্যাতন করল, আমাকে ও আমার পরিবারকে সামাজিকভাবেও হেনস্থা করল। আমি এর বিচার চাই।
নিউজবাংলাকে কলেজছাত্রের বাবা পরিমল ঢাকী বলেন, আমার ছেলেকে গাছে শিকলে বেঁধে মারধরের ঘটনায় আমি পুলিশের কাছে অভিযোগ দিয়েছি। তারাও ব্যবস্থা নিচ্ছে না। আমরা এর সুষ্ঠু বিচার চাই।
অভিযোগের বিষয়ে ব্যবসায়ী আরাফাত হোসেন বলেন, উজ্জ্বল ও তার পরিবার আমার পরিচিত। তাদের সঙ্গে এর আগেও অনেকবার টাকা লেনদেন হয়েছে। তবে এইবার টাকা ভুল নম্বরে যাওয়ায় সে দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিল। তাই তাকে দোকানে বসিয়ে রেখেছিলাম।
তাকে শিকল দিয়ে বেঁধে মারধরের বিষয়টি অস্বীকার করে আরাফাত বলেন, এমন কোনো ঘটনা আমার জানা নেই।
এ বিষয়ে আরেক অভিযুক্ত সাবেক ইউপি সদস্য রাজু মৃধা নিউজবাংলাকে বলেন, বিষয়টি একটু দৃষ্টিকটু হয়েছে, তবে এ ছাড়া টাকা উঠানোর কোনও উপায় ছিল না। আপনারা (সংবাদকর্মীরা) বিষয়টি একটু চেপে যেতে পারেন না? বিষয়টা আমি দেখব।
বেতাগী থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আবদুস সালাম বলেন, লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত করে আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে।
http://dlvr.it/SJ11Qk


0 Comments