সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (শাবি) শিক্ষার্থীদের চলমান আন্দোলনে সংহতি, তাদের বিরুদ্ধে করা মামলা প্রত্যাহার ও ভিসি ফরিদ উদ্দীনের পদত্যাগের দাবিতে জাতীয় শহীদ মিনারে প্রতীকী অনশনে বসে ছাত্রদল।
মঙ্গলবার সকাল ৯টার কিছু পরেই শহীদ মিনারে অনশনে বসেন ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা। প্রতীকী অনশন কর্মসূচি ৩টা পর্যন্ত চলবে বলে জানায় নেতা-কর্মীরা।
তবে বেলা ১১টা ৪৬ মিনিটেই ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা অনশন কর্মসূচি শেষ করেন।
করোনাভাইরাস সংক্রমণ মোকাবিলায় সরকারের জারি করা বিধিনিষেধে সামাজিক, রাজনৈতি বা যে কোনো ধরনের সমাবেশে ১০০ জনের বেশি অংশ নিতে পারবে না বলা হয়েছে। অংশ নিলেও মানতে হবে স্বাস্থ্যবিধি, বাধ্যতামূলক পরতে হবে মাস্ক।
ছাত্রদলের নেতারা প্রতীকী অনশনে বসলেও তাদের মধ্যে স্বাস্থ্যবিধি মানা হয়নি। মানা হয়নি ১০০ জনের যে বাধ্যবাধকতা সেটিও।
অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে বেলা সাড়ে ১১টার দিকে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। প্রস্তুত রাখা হয় ওয়াটার ক্যানন।
বেলা ১১টা ৪৪ মিনিটে ছাত্রদলের সভাপতি ফজলুর রহমান খোকনকে ডেকে দুই মিনিটের মধ্যে শহীদ মিনার এলাকা ছেড়ে দেয়ার আল্টিমেটাম দেন রমনা জোনের সিনিয়র সহকারী কমিশনার বায়েজীদুর রহমান।
সে সময় ছাত্রদল নেতা-কর্মীরা আরও সময় চান। তারা অন্তত পাঁচ মিনিট সময় চাইলে বায়েজীদুর রহমান বলেন, এর বেশি সময় তিনি দেবেন না। তারা যদি শহীদ মিনার এলাকা না ছাড়েন তাহলে আইনগত ব্যবস্থা নেবেন।
আল্টিমেটাম পেয়ে তড়িঘড়ি করে প্রতীকী অনশন শেষ করে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার এলাকা ছেড়ে যান ছাত্রদল নেতাকর্মীরা।
শেষ করার আগে ছাত্রদল সভাপতি বক্তব্য দেন। তিনি বলেন, পুলিশি বাধার কারণে আমাদের কর্মসূচি সংক্ষিপ্ত করতে হচ্ছে। শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের আমরা সমর্থন জানাচ্ছি। আমরা ওই বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের পদত্যাগ চাই। আমাদের দাবি মানা না পর্যন্ত এ আন্দোলন চলবে।
সিনিয়র সহকারী কমিশনার বায়েজীদুর রহমান নিউজবাংলাকে বলেন, করোনার বিধিনিষেধের মধ্যে এতো লোকের সমাগমের অনুমতি নেই। আমরা বারবার নিষেধ করছিলাম। তারা না শোনায় ফোর্স করতে হয়েছে। তারা শান্তিপূর্ণভাবে কর্মসূচি শেষ করে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার এলাকা ছেড়ে গেছে।
কর্মসূচি চলার সময় স্বাস্থ্যবিধি না মানার বিষয়ে জানতে চাইলে ছাত্রদলের সভাপতি ফজলুর রহমান খোকন নিউজবাংলাকে বলেন, আমরা সবাই সচেতন। করোনা সংক্রমণের হার রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে বেশি দেখানো হচ্ছে। প্রকৃত সংক্রমণের চেয়ে সরকার সংক্রমণ বাড়াচ্ছে বেশি। আপনি দেখবেন বাংলাদেশের শুধু শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধ করা হয়েছে, দেশের হাটবাজারসহ সকল কিছু খোলা রয়েছে।
http://dlvr.it/SHlSf3


0 Comments