নাটোরের গুরুদাসপুরে এক কলেজছাত্রীকে অনৈতিক প্রস্তাব দিয়ে উত্ত্যক্ত করার অভিযোগে কলেজের এক কর্মচারীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। উপজেলার খুবজীপুর মোজাম্মেল হক ডিগ্রি কলেজ থেকে মঙ্গলবার দুপুরের দিকে অভিযুক্ত জাকির হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এর আগে জাকিরকে কলেজের কক্ষে তালা দিয়ে সকাল ১০টার দিকে বিক্ষোভ করে শিক্ষার্থীরা। খবর পেয়ে পুলিশ তাকে আটক করে নিয়ে যায়। পরে অভিযোগকারী ছাত্রীর চাচা মামলা করলে তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। গুরুদাসপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল মতিন নিউজবাংলাকে এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, বিভিন্ন সময় ওই ছাত্রীকে উত্ত্যক্ত করেছিল আসছিলেন চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী জাকির হোসেন। মঙ্গলবার সকালেও তাকে অনৈতিক প্রস্তাব দেন তিনি। ঘটনাটি অন্য শিক্ষার্থীদের জানালে কলেজে বিক্ষোভ শুরু করেন তারা। একপর্যায়ে ইটপাটকেল ছুঁড়তে থাকেন বিক্ষুব্ধরা। এ সময় কলেজের একটি কক্ষে তালা মেরে অভিযুক্তকে অবরুদ্ধ করে রাখা হয়। তিনি আরও বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তমাল হেসেন ঘটনাস্থলে গিয়ে ঘটনার সুষ্ঠু বিচারের আশ্বাস দিলে পরিস্থিতি শান্ত হয়। পরে অভিযুক্ত জাকিরকে আটক করে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। এ ঘটনায় কলেজছাত্রীর চাচা জাকির হোসেনকে অভিযুক্ত করে একটি মামলা করেছেন। পরে তাকে মামলায় গ্রেপ্তার দেখা হয়। কলেজ অধ্যক্ষ আবু সাঈদ বলেন, এটা ইভটিজিংয়ের ঘটনা। শিক্ষার্থীদের সমাধানের কথা বলা হয়েছিল। তারপরও তারা বিক্ষোভ করেছিল। পরে ইউএনও, এসিল্যান্ড এবং থানার ওসিসহ পুলিশ সদস্যরা এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। গুরুদাসপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তমাল হোসেন নিউজবাংলাকে বলেন, শিক্ষার্থীকে উত্ত্যক্তের জেরে কলেজে বিক্ষোভের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যাই। পরে অভিযুক্তকে আটকসহ কলেজ ক্যাম্পাসে বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে সঠিক বিচারের আশ্বাস দেই। দুপুর দেড়টার দিকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আসে। এ সময় সুষ্ঠ তদন্তের মাধ্যমে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে বলেও জানান তিনি।
http://dlvr.it/SLJ6y9