ঢাকার কাছে এরইমধ্যে রকেটলঞ্চার, ড্রোন, আর্মড পারসোনাল ক্যারিয়ারসহ নানা অস্ত্র বিক্রি করা তুরস্ক আগামীতে আরও বেশি ও উচ্চ প্রযুক্তিও সমরাস্ত্র বিক্রি করতে চায়। পাশাপাশি প্রযুক্তি স্থানান্তর করে বাংলাদেশে সমরাস্ত্রও তৈরি করতে চায় দেশটি।
বুধবার ঢাকায় সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজ আয়োজিত মিট দি অ্যাম্বাসেডর অনুষ্ঠানে ঢাকায় তুরস্কের রাষ্ট্রদূত মোস্তফা ওসমান এ তথ্য জানান।
তিনি বলেন, আর্মার্ড পারসোনেল ক্যারিয়ার, রকেট লঞ্চার, ড্রোনসহ আরও অনেক পণ্য বাংলাদেশ তুরস্ক থেকে কিনেছে। এটি শুধু ক্রয়-বিক্রয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকা উচিত নয়। তুরস্কের একটি কোম্পানি বাংলাদেশ মেশিন টুলস ফ্যাক্টরিকে শেল বানানোর প্রযুক্তি দিয়েছে এবং সেটি এখানে বানানো হচ্ছে।
প্রতিরক্ষা সহযোগিতা বাড়াতে তার দেশ প্রযুক্তি হস্তান্তরে রাজি জানিয়ে ওসমান বলেন, আমরা পেট্রল বোট তৈরির জন্য প্রযুক্তি হস্তান্তরের প্রস্তাব করেছি। এটি গ্রহণ করা হলে নয়টি পেট্রল বোট খুলনা ও চিটাগাংয়ে তৈরি করা হবে।
গত ১৫ বছরে তুরস্কের কোম্পানিগুলো প্রতিরক্ষা পণ্য উৎপাদনে অনেক উন্নতি করেছে জানিয়ে আঙ্কারার দূত বলেন, তারা এখন ন্যাটো মানের পণ্য উৎপাদন করছেন এবং শর্ত ছাড়া সুলভ মূল্যে এগুলো বিক্রি করা হচ্ছে।
বাংলাদেশের প্রায় তিন হাজার সেনা কর্মকর্তা তুরস্কে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেছে বলেও জানান তিনি।
বাংলাদেশের সঙ্গে তুরস্কের প্রশিক্ষণ ও আর্থিক সহায়তা-সংক্রান্ত সমঝোতা আছে। আর্থিক সহায়তার অধীনে বাংলাদেশ তুরস্কের কাছ থেকে অর্থ নিয়ে প্রতিরক্ষা পণ্য কিনতে পারবে।
বাংলাদেশে সুষ্ঠু নির্বাচন দেখতে চায় তুরস্ক
অন্য এক প্রশ্নে তুর্কি দূত বলেন, বাংলাদেশের আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু দেখতে চায় তার দেশ। তবে তিনি স্মরণ করিয়ে দেন এই নির্বাচনের আয়োজন করা শুধু বাংলাদেশের সিদ্ধান্ত, বিদেশিদের নয়।
তিনি বলেন, বাংলাদেশে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের আয়োজন করা বিদেশিদের কোনো বিষয় নয়, এটি সম্পূর্ণভাবে বাংলাদেশের ওপর নির্ভর করে।
রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে মতপার্থক্য আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের পরামর্শও দিয়ে ওসমান। বলেন, সরকার একা সবকিছু করতে পারে না।
সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজের নির্বাহী পরিচালক জিল্লুর রহমানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে অর্থনীতিবিদ, রাজনীতিক, কূটনীতিক, শিক্ষাবিদসহ বিভিন্ন পেশার ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
http://dlvr.it/ScsGqn


0 Comments