Ticker

6/recent/ticker-posts

Header Ads Widget

Responsive Advertisement

বিএনপির কর্মসূচির সমান্তরালে মাঠে থাকবে আওয়ামী লীগ

বিএনপির প্রতিটি কর্মসূচির সমান্তরালে এখন থেকে কর্মসূচি পালন করবে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। দলটির নেতারা বলছেন, বিএনপিকে রাজপথে মোকাবিলা করা হবে। কোনো কর্মসূচিতে ছাড় দেয়া হবে হবে না। একই ধরনের কর্মসূচি নিয়ে আওয়ামী লীগ রাজপথে থাকবে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দলটির কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের একজন নেতা নিউজবাংলাকে রোববার এ তথ্য জানান। একই কথা জানিয়েছেন আরও কয়েকজন নেতা। ক্ষমতাসীনরা মনে করছেন, ২৯ জুলাই ঢাকার প্রবেশ পথগুলোতে কর্মসূচি শিথিল করায় বিএনপি আগুন-সন্ত্রাস করার সুযোগ পেয়েছে। জনগণের জান-মালের ক্ষতি করেছে। তাই দেশবাসীর জান-মাল রক্ষার্থে বিএনপিকে একা কর্মসূচি পালন করতে দেয়ার সুযোগ নেই। এ কারণে ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনগুলোর প্রতিটি ইউনিট, ওয়ার্ড, থানা, জেলা এবং স্থানীয় ও কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে নেতা-কর্মীরা সতর্ক অবস্থানে থাকবেন। দলের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে এ সংক্রান্ত নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের গত কয়েকদিন তার বক্তব্যেও একাধিকবার বলেছেন, আগামী নির্বাচন পর্যন্ত শান্তি সমাবেশসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালনের মাধ্যমে রাজপথ দখলে রাখবে। আওয়ামী লীগের সূত্র জানায়, ২৯ জুলাইয়ের ঘটনার পর দলটির শীর্ষ নেতাদের মধ্যে এ নিয়ে অনানুষ্ঠানিক আলোচনা হয়েছে। এই আলোচনায় এমন মতামত উঠে আসে যে, গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে কাছাকাছি সময়ে কাছাকাছি স্থানে ভিন্ন ভিন্ন দলের কর্মমূচি থাকতেই পারে। ক্ষমতাসীন দল হিসেবে আওয়ামী লীগ বিশৃঙ্খলা করবে না বরং আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি যাতে স্বাভাবিক থাকে সেজন্য সহযোগিতা করে। এসব মতামতের পরিপ্রেক্ষিতে বিএনপির প্রতিটি কর্মসূচির বিপরিতে কর্মসূচি দেয়ার সিদ্ধান্ত হয়। আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম নিউজবাংলাকে বলেন, শান্তি সমাবেশ, বিক্ষোভ, প্রতিবাদ কর্মসূচির মতো কর্মসূচি নিয়ে নির্বাচন পর্যন্ত মাঠে থাকব। বিএনপিকে আর কোনো ছাড় নয়। আওয়ামী লীগ শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে সহযোগিতা করবে। কোনোভাবেই সংঘাতে জড়াবে না। কিন্তু জনগণের জানমালের নিরাপত্তা দিতে রাজপথে থাকবে। কেউ অরাজকতা করতে চাইলে প্রতিহত করবে। নির্বাচন সামনে রেখে সরকার পতনের একদফা কর্মসূচি পালন করছে বিএনপি। এর ধারাবাহিকতায় গত শুক্রবার রাজধানী ঢাকায় মহাসমাবেশ করে দলটি। পরদিন শনিবার ঢাকার প্রবেশ পথগুলোতে অবস্থান কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দিলেও পুলিশ অনুমতি দেয়নি। তারপরও কর্মসূচি পালন করতে গেলে রাজধানীর অন্তত পাঁচটি প্রবেশ পথে পুলিশের সঙ্গে বিএনপি নেতা-কর্মীদের সংঘর্ষ হয়। সাতটি বাসে আগুন দেয়া হয় আর ২৪টি বাস ভাংচুরসহ বিভিন্নভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। বিএনপি নেতাকর্মী-পুলিশ আহত হয়। এর প্রতিবাদে সেদিন বিকেলেই সারা দেশে বিক্ষোভ কর্মসূচি দেয় আওয়ামী লীগ। এরপর রাতে বিএনপির পক্ষ থেকে ঘোষণা আসে সোমবার তারা দেশব্যাপী জেলা ও মহানগরে বিক্ষোভ সমাবেশ পালন করবে। ওই রাতে আওয়ামী লীগের ঢাকা মহানগর দক্ষিণ শাখার সাধারণ সম্পাদক হুমায়ুন কবীর সাংবাদিকদের জানান, সোমবার রাজধানীতে বিক্ষোভ সমাবেশ করবেন তারা। যদিও রোববার সংগঠনটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, সমাবেশ স্থগিত করে একই কর্মসূচি তারা সোমবারও চালিয়ে যাবেন। এ বিষয়ে জানতে জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য আব্দুর রহমান বলেন, শান্তিপূর্ণ সমাবেশের কথা বলে বিএনপি নেতা-কর্মীরা যাতে দেশে বিশৃঙ্খলা তৈরি করতে না পারে, সেজন্য অতীতের মতোই আমাদের নেতা-কর্মীরা মাঠে সতর্ক অবস্থানে থাকবে। বিএনপি দেশে নৈরাজ্য সৃষ্টির পাঁয়তারা করছে, তাদের সড়যন্ত্র আমরা রাজনৈতিভাবে মোকাবিলা করব।
http://dlvr.it/SsyJ48

Post a Comment

0 Comments