Ticker

6/recent/ticker-posts

Header Ads Widget

Responsive Advertisement

অবৈধ স্থাপনায় আটকে চার লেন প্রকল্প

যশোর শহরের মণিহার থেকে মুড়লি মোড় পর্যন্ত সড়কের দৈর্ঘ্য প্রায় তিন কিলোমিটার। শহরের যানজট নিরসন ও দূরপাল্লার পরিবহনগুলোর চলাচল নির্বিঘ্ন করতে সড়কটি চার লেনে উন্নীত করার কাজ শুরু হয়েছিল প্রায় এক বছর আগে। কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল এই বছরের ৩১ ডিসেম্বর। তবে সেই সময়ে কাজ শেষ হয়েছে মাত্র ৩০ শতাংশ। বাকি কাজ শেষ করতে এখন এক বছরের প্রকল্পের মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে দেড় বছর। সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এ প্রকল্পের কাজ আটকে আছে মূলত তিনটি কারণে। এর মধ্যে সড়কের জমি ব্যক্তিমালিকানায় বরাদ্দ, যশোরে র্যাব-৬-এর অস্থায়ী কার্যালয়ের অবৈধ সীমানাপ্রাচীর ও যশোর শহরের মণিহার এলাকার দুটি বিজয়স্তম্ভের একটি অপসারণে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সাড়া না পাওয়া অন্যতম। সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগ থেকে জানা যায়, শহরের ব্যস্ততম পূর্ব বারান্দিপাড়া থেকে মণিহার-মুড়লি মোড় পর্যন্ত যশোর-খুলনা জাতীয় মহাসড়কের প্রায় তিন কিলোমিটার সড়কটি চার লেনে উন্নীতকরণ প্রকল্পটির ঠিকাদার রাজধানীর আতাউর রহমান খান লিমিডেট ও মাহবুব ব্রাদার্স (প্রাইভেট) লিমিটেড। গত বছরের ১৯ নভেম্বর কার্যাদেশ পাওয়ার পর চলতি বছরের ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে প্রকল্পটি শেষ করার কথা। প্রকল্প বাস্তবায়নের ধীর গতির বিষয়ে সওজ যশোরের নির্বাহী প্রকৌশলী এস এম মোয়াজ্জেম হোসেন বলেন, মহাসড়কের দুই পাশের সড়ক ও জনপথের (সওজ) জায়গা ব্যক্তিমালিকানায় বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। এসব জমি উদ্ধার করতে গেলে আদালতে তিনটি মামলা হয়েছে। ফলে নির্ধারিত সময়ে কাজ হয়েছে ৩০ শতাংশ। বাকি কাজের জন্য প্রকল্পের মেয়াদ ২০২৩ সালের জুন পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। সরেজমিনে দেখা যায়, শহরের মণিহার প্রেক্ষাগৃহের সামনে মুক্তিযুদ্ধের দুটি বিজয়স্তম্ভ রয়েছে। এর মধ্যে পুরোনো বিজয়স্তম্ভের ঠিক সামনেই আরেকটি বিজয়স্তম্ভ করা হয়েছে। তবে মানুষ এখনও পুরোনো বিজয়স্তম্ভেই বিজয় দিবসে পুষ্পমাল্য অর্পণ করেন। সড়ক প্রশস্ত করতে নতুন বিজয়স্তম্ভ অপসারণের জন্য যশোর জেলা কর্তৃপক্ষ গত ২১ নভেম্বর সওজ থেকে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠায়। তবে এক মাসেও এই বিষয়ে সাড়া পাওয়া যায়নি। সড়কের পাশে গড়ে উঠেছে অবৈধ স্থাপনা। ছবি: নিউজবাংলা এ ছাড়া যশোর-নড়াইল সড়কের বিজয়স্তম্ভের দক্ষিণ পাশের ৫ শতক জমি যশোর পৌরসভা থেকে বরাদ্দ নিয়ে চারতলা ভবন নির্মাণ করেছেন শেখ মহব্বত আলী নামের একজন। এই বিষয়টিও কাজে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। মহব্বত আলী বলেন, যশোর পৌরসভা থেকে আমি ওই জায়গা বরাদ্দ নিয়ে চার তলা ভবন নির্মাণ করে একটি আবাসিক হোটেল গড়ে তুলেছি। জায়গা ছাড়তে আমার আপত্তি নেই। আমাকে ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। এ জন্য আদালতে একটি রিট করেছি। যশোর পৌরসভার মেয়র হায়দার গণি খান বলেন, অবৈধভাবে ওই ভবন নির্মাণ করা হয়েছে। কারণ সরকারি বরাদ্দ নেয়া জমিতে বহুতল ভবন নির্মাণ করা যায় না। জাতীয় মহাসড়ক চার লেনে উন্নীতকরণের জন্য ওই ভবন ভেঙে ফেলা হবে। শুধু মহব্বত নয়, প্রকল্পের অগ্রগতি না হওয়ার পেছনে বড় কারণ সড়কের দুই পাশের অবৈধ স্থাপনা। অবশ্য গত বুধ ও বৃহস্পতিবার বেশ কিছু অবৈধ দোকান উচ্ছেদ করেছে সওজ। র্যাবের অস্থায়ী কার্যালয়ের সীমানাপ্রাচীরের কারণেও কাজে দীর্ঘসূত্রতা দেখা দিয়েছে। সওজ থেকে জানা গেছে, শহরের বকচর এলাকায় জাতীয় মহাসড়কের পাশে ভাড়া করা একটি বহুতল ভবনে যশোর র্যাব-৬-এর অস্থায়ী কার্যালয়। সওজ বিভাগের জমি দখল করে ভবনের সীমানাপ্রাচীরসহ প্রধান ফটক নির্মিত হয়েছে। প্রাচীরটি সরিয়ে নিতে গত ২৯ জুলাই সওজের নির্বাহী প্রকৌশলী এস এম মোয়াজ্জেম হোসেন স্বাক্ষরিত একটি চিঠি র্যাব-৬-এর অধিনায়কের কাছে পাঠানো হয়। এই বিষয়ে র্যাব-৬-এর যশোর কার্যালয়ের উপপরিচালক নাজিউর রহমান জানান, র্যাব কার্যালয়ের সীমনা প্রাচীর অপসারণে আর কোনো বাধা নেই। ভবনের মালিককে নতুন করে নিজের সীমানায় নিরাপত্তাপ্রাচীর নির্মাণ করে দিতে বলা হয়েছে। যশোর বাসমালিক সমিতির প্রশাসনিক কর্মকর্তা আনিসুজ্জামান পিন্টু জানান, প্রতিদিনই স্থানীয় বাসসহ দূরপাল্লার অগণিত বাস এই সড়ক দিয়ে যাতায়াত করে। এই সড়কে হেঁটে পার হওয়াই এখন দুর্বিষহ। যে বাসগুলো এই সড়ক দিয়ে চলাচল করে তা প্রায় সময় রাস্তার মাঝে নষ্ট হয়ে পড়ে থাকে। এখন শুধু অপেক্ষা, সঠিক নিয়মে সড়ক নির্মাণসহ অন্যান্য কাজ বাস্তবায়ন হবে।
http://dlvr.it/SG4CRW

Post a Comment

0 Comments