Ticker

6/recent/ticker-posts

Header Ads Widget

Responsive Advertisement

শীতকালীন ভ্রমণের প্রস্তুতি নেবেন যেভাবে

শীতকালে বেড়াতে যাওয়ার জন্য সবার মনটা ছটফট করে। কোথাও যাওয়ার আগে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো ভ্রমণ প্রস্তুতি। এটার ওপর নির্ভর করবে ভ্রমণ কতটা আনন্দময় হবে। স্মার্ট ট্রাভেল ডটকমের এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে ভ্রমণ প্রস্তুতির আদ্যোপান্ত। চলুন দেখে নেই। . গন্তব্য বেড়াতে যাওয়ার আগে প্রথমেই নির্ধারণ করতে হবে গন্তব্য। যেহেতু শীতে যাচ্ছেন, সেহেতু শীতকালে ভ্রমণের জন্য উপযোগী জায়গাগুলোতে গেলে ভালো হবে। কোথায় যাবেন এই সিদ্ধান্ত নিতে হলে যা মাথায় রাখতে হবে তা হলো, কত দিনের জন্য বেড়াতে যাবেন, আপনার বাজেট কত, সাগর, পাহাড়, বন, হাওর, নদী ঠিক কোন জায়গা আপনার বেশি পছন্দ, সঙ্গে কাদের নিয়ে যাবেন, যেখানে যাবেন সেখানের সুযোগ-সুবিধা কেমন। এগুলো চিন্তা করলেই আপনি পেয়ে যাবেন কোথায় যাওয়া উচিত। . কিভাবে যাবেন ভ্রমণের জন্য পরিবহন খুব গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। বাস, লঞ্চ, ট্রেন, প্লেন, প্রাইভেট কার কোনটায় যাবেন- এটা নির্বাচন করা জরুরি। ট্র্যাফিক জ্যাম এড়াতে স্থলপথে যাতায়াত না করাই ভালো। এ ক্ষেত্রে ট্রেন প্রথম পছন্দ হতে পারে। সামর্থ্যবান যারা, তারা বিমানে ভ্রমণ করতে পারেন। তবে যে পরিবহনই আপনি ব্যবহার করেন না কেন লক্ষ্য রাখবেন, আপনার জীবনের নিরাপত্তা এবং সুরক্ষার বিষয়টি। . কোথায় থাকবেন বেড়াতে গেলে কোথায় থাকবেন তার ওপর আপনার ভ্রমণের অনেক আনন্দ নির্ভর করে। আপনার বাজেট, আপনার ভ্রমণ সঙ্গী কতজন, কেমন পরিবেশে থাকতে চান, নিরাপত্তাব্যবস্থা কেমন- এই বিষয়গুলো ভেবেই কোথায় থাকবেন তার সিদ্ধান্ত নিতে হবে। যেখানেই যান না কেন, থাকার জায়গা আগে থেকে ঠিক করে যাওয়াই শ্রেয়। যদি আগে থেকে সম্ভব না হয় তাহলে ভালো মতো খোঁজখবর নিয়ে যাওয়া উচিত। ছুটির দিনগুলোতে ভিড় বেশি থাকে, হোটেল-মোটেলের ভাড়া বেশি হয়। এই জিনিসটা অবশ্যই মাথায় রাখবেন। সম্ভব হলে ছুটির দিনগুলো এড়িয়ে যাবেন। তাতে অনেক কিছুতেই খরচ কমে যাবে। . খোঁজখবর যেহেতু ঘুরতে গেলে হাতে বেশি সময় থাকে না, তাই যেখানে যাবেন ঠিক করেছেন, সেখানে দেখার কী কী আছে, কোথায় কোথায় ঘুরতে যাবেন, কবে-কখন কী করবেন, তা আগেই খোঁজখবর নিয়ে একটি তালিকা করে ফেলুন। এতে আপনার সময় বাঁচবে যেমন, তেমনি ওই খানের ভ্রমণ স্থানগুলো দেখতে পারবেন ভালো করে। সেখানকার আবহাওয়া ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সম্পর্কে খরব নিয়ে যাবেন, পাশাপাশি সেখানকার জরুরি ফোন নম্বর এবং লোকেশন সম্পর্কে তথ্য আগে থেকে সংগ্রহ করে রাখুন। যেমন- নিকটস্থ থানা (পুলিশ), টুরিস্ট পুলিশের হেল্পডেস্ক নম্বর, হাসপাতাল, স্বাস্থ্যসেবাকেন্দ্র, আবাসিক হোটেল, ব্যাংক ইত্যাদি। যদি ওই এলাকার স্থানীয় কোনো পরিচিত কেউ থাকে তাহলে তার নম্বর নেবেন। . ব্যাগ প্যাকিং সঙ্গে কী কী নেবেন তা নির্ভর করবে আপনি কোথায় বেড়াতে যাচ্ছেন, কত দিন থাকবেন তার ওপর। যেমন পাহাড়ে বেড়াতে গেলে অবশ্যই ব্যাগের ওজন যত কম রাখা সম্ভব তার দিকে মন দিতে হবে। তবে যেখানেই যান না কেন, ব্যাগ ভর্তি জিনিস না নিয়ে দেখেশুনে দরকারি জিনিস নেয়াই উত্তম। একটা ভারী ব্যাগপ্যাক আপনার ভ্রমণ আনন্দ মাটি করে দিতে পারে। এ সময় একটি কিংবা দুটি জামা বেশি নিতে পারেন। টুথপেস্ট, ব্রাশ, আন্ডারওয়ার, গামছা বা তোয়ালে, ক্যাপ, জুতা, বেল্ট ইত্যাদি ছাড়াও আনুষঙ্গিক আর কী কী প্রয়োজন হতে পারে তার একটা লিস্ট করুন। লিস্ট ধরে ঠিক চিহ্ন দিয়ে একটি একটি জিনিস ব্যাগে ঢুকান, এতে করে দরকারি কোনো কিছু ভুলে ফেলে যাবেন না। . ভ্রমণের পোশাক শীতকালে গাঢ় রঙের মোটা তাপনিরোধক কাপড়ের তৈরি জামা পরিধান করুন। তবে খেয়াল রাখবেন শীতের কাপড়ের ওজন যত সম্ভব যেন কম হয়। তা না হলে আপনার ব্যাকপ্যাক ভারী হবে। ঠান্ডা থেকে বাঁচার জন্য সঙ্গে করে মাফলার, মোজা, গ্লাভস, হুডসহ কাপড় পরিধান করতে পারেন। . দরকারি ডিভাইস বেড়াতে যাওয়ার আগে দেখে নিন আপনার প্রয়োজনীয় ডিভাইসগুলো সঙ্গে নেয়া হয়েছে কি না। মোবাইল ফোন ছাড়া বর্তমানে জীবন কল্পনা করা যায় না, তাই শহর থেকে দূরে গেলেও সবার সঙ্গে যোগাযোগ রাখতে মোবাইল ফোন নিয়ে নিন। রওনা দেয়ার আগে পুরো চার্জ দিয়ে নিন। সঙ্গে করে ফোনের চার্জার নিতে ভুলবেন না। আপনার বেড়ানোর সুন্দর স্মৃতিগুলো ধরে রাখার জন্য চেষ্টা করবেন একটা ভালো ক্যামেরা সঙ্গে নিতে। আর তার সঙ্গে অবশ্যই খেয়াল রাখবেন যেন ক্যামেরার ব্যাটারির চার্জ ফুল থাকে। সঙ্গে করে নিতে পারেন এক্সট্রা ব্যাটারি। . ওষুধ-পথ্য শীতে সর্দি-জ্বর, কাশি, শ্বাসকষ্ট বা হাঁপানি, নাকের প্রদাহ, চোখ ওঠা, ডায়রিয়া, আমাশয়, নিউমোনিয়া প্রভৃতি রোগ হয়ে থাকে। সম্ভব হলে প্রয়োজনমতো সঙ্গে ওষুধ রাখুন। জ্বর, পেট খারাপ, অ্যাসিডিটি, বমি, মাথা ধরার ওষুধ নিয়ে নিন। আরও নিন ব্যান্ড এইড, অ্যান্টিসেপটিক, পরিমাণ মতো তুলা ও গজ। এগুলো সঙ্গে থাকলে অনেক বড় বিপদ থেকেও রক্ষা পাওয়া সম্ভব। সঙ্গে নেয়া এসব ওষুধপত্রের একটি তালিকা আগেভাগেই তৈরি করে রাখতে পারেন। প্রেশার, ডায়াবেটিস বা অন্য কোনো সমস্যা থাকলে প্রেসক্রিপশনের প্রয়োজনীয় ওষুধ পর্যাপ্ত পরিমাণে নিয়ে নিন। . টাকা-পয়সা ভ্রমণে কত টাকা খরচ করবেন, সে ব্যাপারটি আগে থেকেই হিসাব করে ঠিক করে নিন। তারপর বাজেট অনুসারে খরচ করুন। পর্যাপ্ত টাকা-পয়সা নিয়ে যাওয়া ভালো। একটা আনুমানিক তালিকা করে ধারণাকৃত অঙ্ক থেকে ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ বেশি প্রস্তুতি থাকা ভালো। টাকা বহনে ভালো না লাগলে সাবধানতার সহিত কার্ড বহন করতে পারেন। বিকাশ অ্যাকাউন্ট বা মোবাইলে টাকা লেনদেন করা যায় এমন কোনো অ্যাকাউন্ট থাকলেও খুব কাজে লাগবে।
http://dlvr.it/SHSJ0w

Post a Comment

0 Comments