Ticker

6/recent/ticker-posts

Header Ads Widget

Responsive Advertisement

১৭ বছরের তরুণী না বললে ইন্টারভিউ দেব না যাও: রুনা লায়লা

প্রশ্নকর্তা: সত্তর তম জন্মদিনে কথা থামিয়ে দিয়ে রুনা লায়লা বললেন, সত্তর বছর কে বললো? প্রশ্নকর্তা: আচ্ছা সত্তর বছরের তরুণী রুনা লায়লা: ১৭ বছরের তরুণী বলবে। না হলে ইন্টারভিউ দেব না যাও। হাসির রোল পরল রুনা লায়লা, প্রশ্নকর্তা এবং পাশেই থাকা আরও কয়েকজন গুণী মানুষের মধ্যে। রুনা লায়লা মজা করতে পছন্দ করেন। নিজেই জানালেন, বাড়িতে তিনি একরকম। যখন বাইরে বের হন তখন তিনি সেইরকম, যেমনটা মানুষের মধ্যে তার ইমেজ বা মানুষ তাকে দেখতে চান। যেখানে যেমনই থাকুন না কেন, রুনা লায়লা নিজেকে ডিসিপ্লিনড বলে দাবি করেন। তিনি নিউজবাংলাকে বলেন, শিল্পীর জন্য ডিসিপ্লিন জরুরি। জীবনে একটা রুটিনের মধ্যে থাকা; সেটা মেইনটেইন করা, একাগ্রতা না থাকলে তো হবে না। আমি টাইমিংয়ের ব্যাপারে খুবই সচেতন। আমাকে চারটায় আসতে বললে আমি সাড়ে তিনটায় চলে আসার চেষ্টা করি। কিংবদন্তি এ শিল্পী এটাও মনে করেন যে, জীবন নিয়ে একেকজনের একেক ধারণা। সেসব দিয়ে দিয়ে নিজেকে যাচাই তিনি করেন না। আমরা ছোট বেলা থেকেই বাড়িতে একটা ডিসিপ্লিনের মধ্যে থেকেছি। গুড ম্যানার্স, গুড ডিসিপ্লিন শিখেছি। যেটাই করেছি, আমাদের কখনও ফোর্স করা হয়নি। বলেন রুনা লায়লা। গুণী এ শিল্পী তার বর্ণাঢ্য জীবনকে ফুল অফ জয় বলে দাবি করেছেন। তিনি বলেন, স্যাডনেস তো থাকেই সবার জীবনে। আমার বড় বোনকে হাড়ালাম যখন উনার বয়স ২৭ বছর। ৫ বছরের ছেলে রেখে চলে গেলেন। তার তিন বছর পর বাবা চলে গেলেন। মা মারা গেলেন ২০১৪ তে। দুঃখ তো থাকে সবার জীবনে। ওটাকে পেড়িয়ে উঠতে হবে। এগুলো ছাড়া জীবনটা ফুল অফ জয় হিসেবে বলা যায়। ফেলে আসা জীবন ফিরে দেখার প্রয়োজন হয় না রুনার। যদি কখনও দেখেই ফেলেন, সেসময় নিজের গানটাকেই খোঁজেন। বলেন, নিজের গাওয়া গান যখন শুনি, তখন মনে হয় যে, এটা যদি আরেকবার গাইতে পারতাম, তাহলে হয়তো একটু বেটার হতো। এছাড়া পেছনে আর তাকানোর প্রয়োজন নাই। সৃষ্টিকর্তার রহমতে অনেক কিছু পেয়েছি, অনেক কিছু পাচ্ছি। মাঝে মাঝেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পোস্ট করা ছবিতে রুনা লায়লার সঙ্গে দেখা যায় তরুণ শিল্পীদের। কী কথা হয় তাদের সঙ্গে, জানতে চাইলে শিল্পী বলেন, আমি ওদের সাপোর্ট করি। ওদেরকে বলি, যদি কিছুর দরকার হয় তাহলে অবশ্যই যেন আমার সঙ্গে যোগাযোগ করে। কেউ ভালো একটা অনুষ্ঠান করলে, ভালো একটা গান গাইলে, আমিই ওদের ফোন করি। ওদের উৎসাহ দেয়ার চেষ্টা করি। কিছুটা স্মৃতিচারণের মুডে গিয়ে রুনা লায়লা বলেন, এখন গাওয়া তো অনেক সহজ হয়ে গেছে। কম্পিউটার অনেক কিছু করে দেয়। আমরা যে সময় গান শুরু করেছি, তখন সব লাইভ হতো। একবার ভুল হলে আবার প্রথম থেকে শুরু করতে হতো। ওই পরিশ্রমটা আমাকে অনেক হেল্প করেছে। ১২ বছর বয়সে প্রফেশনালি গান শুরু আমার। তখন তো স্কুলেও যেতে হতো। ভোরে স্কুল শেষ করে রেকর্ডিংয়ে যেতাম, সন্ধ্যায় রেওয়াজ করতাম। এক সপ্তাহে ৩০টা গানও করেছি, তাও আবার লাইভ। ইট ওয়াজ টাফ বাট আই লার্ন এ লট। আমি এখন গান করতে গেলে মনে হয়, এক্সপ্রেশনগুলো ঠিক হচ্ছে না। লাইভ গাওয়ার মধ্যে মজা থাকে। কাট পেস্ট করে সেটা হয় না; ওটা আমি পছন্দও করি না। আমার মনে হয়, যদি লাইভ গাওয়া যেত বা ডুয়েট হলে একসঙ্গে গাইতাম। কিন্তু সেটা আর হয় না। পুরোটা না হলো কিছুটাও যদি লাইভ করা যেত, খুব ভালো হতো। এখন তো সেটে গিয়ে অনেক কিছু হয়। আমি এখনও ইনসিস্ট করি, যদি আমার মনে হয় কোথাও ভালো লাগছে না, সেটা আমি আবার করতে চাই। কিন্তু সেই সময়টাই নেই কারও। ওরা বলে, কাট পেস্ট করে লাগিয়ে নেব। গাওয়ার পাশাপাশি গানে সুর দেন রুনা লায়লা। সেরকম একটি প্রজেক্ট করার ইচ্ছে আছে। কিন্তু প্রযোজনার জন্য নাকি হচ্ছে না কাজটি। রুনা লায়লা একটি কাজ করবেন আর সেখানে প্রযোজক পাওয়া যাবে না, এটা বিশ্বাস করতে কষ্ট হয় যেন। তিনি বললেন, ওখানেই সমস্যা হচ্ছে। আরেকটু বাড়িয়ে বলেন, আমি অনেকদিন ধরেই চেষ্টা করছি একটা কাজ করব। অনেকেই এগিয়ে আসে আবার পিছিয়ে যায়। আরও কিছু বাংলা গান করার প্ল্যান আছে, কথা হচ্ছে কিছু শিল্পীর সঙ্গে। অন্য দেশে যেমন একটা গানের পেছনে অনেক খরচ করে। আমাদের এখানে সেরকম হয় না। রুনা লায়লা এসব কথা যখন বলছেন তখন দুপুর হয়ে গেছে। তার মধ্যাহ্ন ভোজও শেষ। বৃহস্পতিবার তার ৭০তম জন্মদিন উপলক্ষে রাত থেকেই চলছে নানা আয়োজন। দুপুরে তিনি অংশ নিয়েছিলেন একটি টিভি অনুষ্ঠানে। সেখানেই তার সঙ্গে কথা হয় নিউজবাংলার। বৃহস্পতিবার দিনটির শেষ প্রান্তে আর কোনা আয়োজন আছে কি না জানতে চাইলে রুনা লায়লা বলেন, এখন বাড়িতে গিয়ে ঘুম দেব।
http://dlvr.it/ScwP4k

Post a Comment

0 Comments